Tuesday, April 9, 2019
শেষ বিকালের ডাক (মুহাম্মাদ মহসীন ভূঁইয়া)
মুহাম্মাদ মহসীন ভূঁইয়া)
বৃহস্পতির বিকাল বেলা আমায় নিও বন্ধু।
তোমার প্রেমে পাগল হয়ে পাড়ি দিবো সিন্ধু।
রক্তমাখা জামা গায়ে আসবো সেদিন কাছে।
আপন যারা পালিয়ে যাবে তুমি থাকবে পাশে।
চোখের জ্যোতির বন্ধ হবে থাকবে নাকো আলো।
আলোর ভরা ভুবন সেদিন আমার হবে কালো।
শেষ গোধূলির লাল শাড়িটি পড়বে আকাশ জানি।
এই পৃথিবী মরিচিকা তুমি সত্যের স্বামী।
গোসল শেষ সাজবো আমি উঠবে সেদিন খাটে
শুক্রবারের প্রভাত শেষে রাখবে নদীর ঘাটে
পাগল তোমার সব হারিয়ে আসবো সেদিন ফিরে।
ক্ষমা করে আদর মেখে নিও জ্যোতি ঘিরে।
মাটির নূরে মাটি ঘুরে আসছি মাটির ঘরে।
এই মাটিতে তুলবে আবার প্রলয়ে ঘুর্ণীর পরে।
জীবন আমার তোমায় ভুলে কাটছি হেলার ছলে।
রক্ষা করো মহান প্রভু দয়ার সাগর হলে।
Friday, April 5, 2019
হিংস্রতা অমানুষের রুপ
মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস (অর্থনীতি)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
mohsinbhuiyan1980@gmail.com
Thursday, April 4, 2019
৭১ পরাজিতরা আবারও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত "সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনীতিকদের করণীয়" শীর্ষক আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেবার পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন ভূঁইয়া বলেন, গত ৩০ তারিখ নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে এদেশের ষোলো কোটি মানুষ ৭১ পরাজিতদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ এখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সাথে আছে। উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষ রায় দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মাদক আর সন্ত্রাসের বিরোদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমিক হতে হবে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সরকারের পাশে থাকতে হবে কারণ ৭১ পরাজিতরা আবারও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ডাঃ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
আরো বক্তব্য রাখেন বিএলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এম পি ও চাকসু ভিপি শাহ মাজহারুল হক চৌধুরী, বিকল্প ধারার ভাইস চেয়ারম্যান এনায়েত কবির, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া,জন দলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী,বাগসদ সভাপতি সরদার শামস আল মামুন,ইসলামী গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, লেবার পার্টির নেতা সুরুজ্জামান, রাজু আহমেদ পোদ্দার, জিয়াউর রহমান, কামরুল ইসলাম সুরুজ প্রমুখ।
Friday, March 29, 2019
পার্বত্য অঞ্চল ও শান্তিচুক্তিঃ মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনপদটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি পাহাড় ও বনভূমি এলাকা। এখানের তিনটি জেলা রাঙামাটি , খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে পার্বত্য অঞ্চল। চট্টগ্রাম বিভাগের এই এলাকা পাহাড়, বনভূমি ও উপত্যকায় পূর্ণ বলে এর নামকরণ হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের আয়তনের এক দশমাংশ এই পার্বত্য এলাকা। মোট বনভূমির বিশাল অংশের এই অঞ্চল জুড়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দিয়ে বয়ে চলা প্রধান নদী হল কর্ণফুলী । আর এই নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাইতে উৎপাদন হচ্ছে জলবিদ্যুৎ।
পার্বত্য অঞ্চলটি ১৫৫০ সালের দিকে প্রণীত বাংলার প্রথম মানচিত্রে বিদ্যমান ছিল। তবে এর প্রায় ৬০০ বছর আগে ৯৫৩ সালে আরাকানের রাজা এই অঞ্চল অধিকার করে শাসন করেছিলেন, ১২৪০ সালের দিকে ত্রিপুরার রাজা এই এলাকা দখল করে নিজ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৭৫ সালে আরাকানের রাজা এই এলাকা পুনর্দখল করেন, এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত অধিকারে রেখে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। মুঘল সম্রাজ্যের অধীনে ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার শাসন ছিল। ১৭৬০ সালে ইংল্যান্ড বা ব্রিটেনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেন। ১৮৬০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরাই প্রথম এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা হলে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর এই অঞ্চলটি বাংলাদেশের জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলা - রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি নামে বিভক্ত করা হয়।
বিএসএস(অনার্স)এমএসএস (অর্থনীতি)।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Thursday, March 28, 2019
ধর্ম চিন্তাঃ মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
(মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া)
মানুষের বিশ্বাস, মানুষ নিজের উপর যেই নিয়ম বা বিধান নিজে নিজে আরোপ করে, অর্থাৎ অন্যের বল প্রয়োগ বা প্ররোচনায় প্ররোচিত না হয়ে স্বেচ্ছায় নিজে উপর নিজে যে লিখিত বা অলিখিত নীতিমালা কায়েম করে তাকে ধর্ম বলে। কোন ব্যক্তি যখন নিজের উপর ইসলামের বিধানে স্বেচ্ছায় কায়েম করে, তখন সে একজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয় এবং তার ধর্মীয় পরিচয় হয় মুসলিম। আবার কেউ যদি হিন্দু মত মেনে নেয়, তখন সে একজন হিন্দু ধর্মীয় অনুসারী হয়। অর্থাৎ এই মেনে নেওয়াটা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হতে হবে। আজকের পৃথিবীতে এভাবেই ইসলাম, হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, ঈসায়ীসহ শত শত মতবাদ বা বিশ্বাস মানুষ পালন করে। আবার একদল বিশ্বাসী আছে, যারা কোন নিয়ম বা বিধান কে মেনে চলতে চায়না। এরা হলো অবিশ্বাসী মতবাদে বিশ্বাসী, এটাকেও আপনি একটা বিধান বা ধর্ম বলতে পারেন। যারা কোন নিদিষ্ট নিয়মে বিশ্বাসী নয়। তাহলে আমরা বলতে পারি-
ধর্ম হলো মানুষের স্বেচ্ছায় নিয়মের বিধানে বন্দি এমন এক জীবন ব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিজেকে অন্য শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে দেয়। আর যারা আত্মসমর্পণ করেনা, তারা হলো অবিশ্বাসী ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাসী। যেহেতু প্রত্যেক মানুষ কোন না কোন একটি নিয়ম বা বিধানে বিশ্বাসী, তাই সকল মানুষ আস্তিক ধর্মীয় মতে বিশ্বাসী , মানুষ নাস্তিক হতে পারেনা। তবে কেউ ইসলামে আস্তিক, কেউ হিন্দুতে আস্তিক আবার কেউ বৌদ্ধ বা ঈসায়ী বা জৈনতে আস্তিক। কেউ স্রষ্টায় আস্তিক অথবা কেউ স্রষ্টায়হীনতায় আস্তিক।
মানুষ আত্মশুদ্ধি ও আত্মমুক্তির জন্য দুনিয়ার জীবনে যে পথ অনুসরণ করে চলে তাকে ধর্ম বলে। যে যেপথে বিশ্বাস করে, সে সেই ধর্ম পথের বিশ্বাসী বা অনুসারী। মানুষ ধর্মমত বা পথ পালন করার একমাত্র কারণ হলো আত্মশুদ্ধি বা আত্মমুক্তি। ধর্ম কখনও অসৎপথ বা মতে মানুষকে পরিচালিত করেনা। সকল ধর্মের মানুষ চায় মুক্তি,শান্তি ও শৃংখলা। ধর্ম চিন্তায় মানুষ হলো সত্যের অনুসন্ধানী ও সত্য প্রাপ্তি পথিক মাত্র। এখানে হিংসা, হানাহানি, হত্যা ও জোর জুলুমের স্থান নেই। ধর্ম কখনও মানুষকে অমানবিক আচরণ শিক্ষা দেয়না। ধর্মের শিক্ষা হলো মানবতা, শান্তি, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সহাবস্থান, জীবে প্রেম, অহিংসা আর সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্যের সন্ধান করা।
লেখকঃ
মুহাম্মদ মহাসীন ভূঁইয়া
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস অর্থনীতি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Wednesday, March 6, 2019
বাড়িওয়ালা
বাড়িওয়ালা
বাড়িওয়ালার কান্ড
নামায পড়ে রোজা রাখে
আসলে সে ভন্ড।
নীতিহীন ভ্রষ্ট লোক
অতি স্বার্থবাজ,
ভাড়াটিয়া কষ্ট দেওয়া
এই লোকের কাজ।
বাসাটি যেমন তেমন
ভাড়া দ্বিগুণ,
টাকা দিতে হলে দেরি
জ্বলে বেগুন।
গ্যাসহীন বাসায় থাকি
বিদুৎ চমৎকার,
বছর শেষ নাহতে
ভাড়া বাড়ানোর পুরষ্কার।
Friday, March 1, 2019
৭১ পরাজিতরা আবারও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেঃ (মহসীন ভূঁইয়া)
৭১ পরাজিতরা আবারও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেঃ মহসীন ভূঁইয়া
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত "সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনীতিকদের করণীয়" শীর্ষক আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেবার পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন ভূঁইয়া বলেন, গত ৩০ তারিখ নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে এদেশের ষোলো কোটি মানুষ ৭১ পরাজিতদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ এখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সাথে আছে। উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষ রায় দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মাদক আর সন্ত্রাসের বিরোদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমিক হতে হবে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সরকারের পাশে থাকতে হবে কারণ ৭১ পরাজিতরা আবারও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ডাঃ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
আরো বক্তব্য রাখেন বিএলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এম পি ও চাকসু ভিপি শাহ মাজহারুল হক চৌধুরী, বিকল্প ধারার ভাইস চেয়ারম্যান এনায়েত কবির, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া,জন দলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী,বাগসদ সভাপতি সরদার শামস আল মামুন,ইসলামী গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, লেবার পার্টির নেতা সুরুজ্জামান, রাজু আহমেদ পোদ্দার, জিয়াউর রহমান, কামরুল ইসলাম সুরুজ প্রমুখ।
Wednesday, February 20, 2019
প্রসঙ্গ নাম পরিবর্তনঃ প্রয়োজন উন্নত চিন্তা ও মানসিকতার (মহসীন ভূইয়া)
ইসলামে সাম্প্রদায়িকতা, কট্টরচিন্তা, জঙ্গিবাদ, দেশের মানুষের সাথে ধর্মের নামে বেইমানির কোন স্থান নেই। ইসলাম হলো শান্তি আর অসাম্প্রদায়িক জীবন ব্যবস্থায় সোনালী ধর্ম। এখানে কট্টর চিন্তা, কট্টর মানসিকতা ও সহিংসতা কোন স্থান নেই।
সুতারাং নাম নয়, প্রয়োজন উন্নত, আধুনিক, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও উদার মন মানসিকতার।
(মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া)
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান,
বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
ধর্ম মানবতায় শান্তির পথঃ মহসীন ভূঁইয়া
এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। তবে হা, ভাষা লিখিত রুপ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাকরণ কিছুটা সহায়ক হিসেবে কাজ করে বলতে পারেন। আমরা আমাদের শিশু সন্তানদের ভাষার লিখিত রুপ শিখানো ক্ষেত্রে কি প্রথমে ব্যাকরণ শিখাই ? উত্তর না। আবার প্রবাসীরা যখন আরব বা ইউরোপে ভাষা শিখে তখন কি ব্যাকরণ শিখে ? উত্তর না।
তাহলে আমরা বলতে পারি, ভাষার রুপগত আকারকে সুন্দর করার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ সহযোগী ভুমিকা পালন করে মাত্র। পৃথিবীতে এমন শতশত ভাষা আছে, যেটা ব্যাকরণ তো অনেক দূর, রুপগত আকার বা বর্ণমালা ও নেই। তাহলে আমরা বলতে পারি ভাষার প্রকাশ হলো মৌলিক ও প্রধান বিষয়। আর ব্যাকরণ হলো সহায়ক বিষয় মাত্র। অথচ মানুষ আসলটাকে বাদ দিয়ে নকলটা নিয়ে টানাটানি ও পারাপারি করে মহাব্যস্থ।
আজকের পৃথিবীতে প্রায় সাতশত কোটির একটু বেশি মানুষ বসবাস করে। যার অর্ধেরও বেশি নারী আর বাকিটা পুরুষ। এই পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির করে পাঠানোর আগে জ্বীন জাতিকে পাঠিয়েছেন। মানুষ পৃথিবীতে আসার আগেও এখানে জ্বীনেরা ছিল। পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া সব কিছুই মানুষের কল্যাণে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবী কে আল্লাহ মানুষের বসবাসের জন্য এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। কোন বিশেষ শ্রেনী বা গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় বা আল্লায় বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী এমন কারো জন্য সৃষ্টি করেননি। কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষের কল্যাণের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ইসলাম হলো আল্লাহর মনোনীত ধর্ম মত বা পথ। ইসলাম ধর্মমত বা পথকে আল্লাহ মানব জাতির জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন। তবে মানুষকে দুনিয়াতে মত বা পথ গ্রহণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন - আমি আল্লাহ যদি চাইতাম, সকল মানুষকে মুসলিম ও ইসলামকে দুনিয়াতে স্থায়ীভাবে কায়েম করতে পারতাম। এটা আমি করিনি কারণ আমি দেখতে চাই, তোমাদের মাঝে কারা আমাকে বিশ্বাস করে ও আমার দেওয়া বিধান মেনে চলে। তাহলে আমরা বলতে পারি, পৃথিবীর মৌলিক উপাদান হলো মানুষ, সকল মানুষ, এখানে কোন শ্রেনী বা বিশেষ গোষ্ঠির জন্য আল্লাহ পৃথিবী বা অন্য সব কিছু সৃষ্টি বা ইসলাম কে মনোনীত করেননি। মানুষ হলো মৌলিক উপাদান, আর অন্য সব প্রাণী বা জীবজন্তু বা ধর্ম মত বা পথ বা ইসলাম বা সব সৃষ্টি করেছে শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণে বা প্রয়োজনে। অথচ আজ মানুষকে গৌণ বিষয় আর ধর্মমত বা পথকে মৌলিক বিষয় বানিয়ে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। যে মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ পৃথিবীকে সৃষ্টি করলো, ইসলাম ধর্মকে পাঠিয়েছে, এই মানুষ আজ ধর্মের নামে, পৃথিবী শাসনের নামে, পৃথিবীর ক্ষমতার জন্য, আরেক মানুষকে হত্যা করছে, মানুষ মানুষের উপর জুলুম করছে, নির্যাতন করছে, নিজ ধর্মমত অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি সকল জাহানের একমাত্র মালিক ও সৃষ্টিকারী, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠালেন এবং যিনি মানুষকে দুনিয়াতে পরীক্ষা করার জন্য স্বাধীন করে দিলেন তার সৃষ্টি মানুষকে আজ মানুষই ক্ষমতার জন্য, ধর্মের নামে, ইসলামের নামে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ধর্মমত বা পথ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটা বিশ্বাস ও স্বেচ্ছায় মানা এবং পালন করার বিষয়। দুনিয়ার জীবনে আমরা যখন স্কুল বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিই, তখন কি আমরা একজন আরেকজনকে লিখে দিই, বা আমরা কি অন্য কেমন পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা নিয়ে ভাবি ? নাকি নিজের পরীক্ষা নিয়ে ভাবি?
অবশ্যই নিজে পরীক্ষা দেই এবং নিজেকে নিয়ে ভাবি। কারণ আমার কর্মফল আমাকে ভোগ করতে হবে। প্রশ্ন নিদিষ্ট আর উত্তর লেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর ফলাফলে প্রশ্নের উত্তর অনুযায়ী পরীক্ষার পর ঘোষণা করা হবে।
দুনিয়াটা মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, এখানে প্রত্যেক মানুষ পরীক্ষার্থী আর আল্লাহ সবাইকে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা মানুষ হয়ে কাউকে বাধ্য করতে পারিনা। তবে মানুষের কল্যাণময়ী হয়ে সঠিক পথে ডাকতে পারি। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা আল্লাহ কোন নবী বা রাসূলকে ও দেননি। পৃথিবী হলো পরীক্ষার হল, এখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং সময়ও সবার জন্য নিদিষ্ট। এখানে মানুষের নতুন নতুন ভাবনা আছে, চিন্তা আছে, মত বা পথ প্রকাশের ভিন্নতা থাকতে পারে। সবাই পাশ করবেনা, আবার সবাই ফেলও করবেনা এবং সমান নাম্বারও পাবেনা। এখানের পরিবেশে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপার্থক্য মানুষের জন্মগত, আইনগত এবং মুক্তচিন্তা আর স্বাধীন মানসিকতার উর্বর ফসল। যারা মনে করে পৃথিবীর সকল মানুষ একই চিন্তা আর বিশ্বাসের আলোকে চলবে বা পরিচালিত হবে, তাদের চিন্তার গোড়াতে গলদ আছে বলে আমি মনে করি। যারা স্রষ্টাতে বিশ্বাস করে বা ইসলাম ধর্মের অনুসারী, তারা এমনটা কোন ভাবেই বিশ্বাস করার কারন থাকতে পারেনা। আল্লাহ দুনিয়াতে মানুষকে চিন্তা, বিশ্বাস আর মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের জীবন নিজের মত করে পরিচালিত করারও স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে সবাইকে ইসলামের অনুসারী এবং পৃথিবীতে ইসলামকে একমাত্র পথ ও মত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা করেননি, তিনি দুনিয়াতে মানুষকে মত ও পথ গ্রহণে স্বাধীনতা দিয়েছে। কাউকে জোর করে বা বাধ্য করে মতামত বা পথ চাপিয়ে দেননি। ধর্ম বা বিশ্বাস মানুষ পৃথিবীতে আসার আগেও ছিল, এখনও আছে। পৃথিবী পূর্ণ আয়ুতে থাকবে। যতদিন থাকবে, ততদিন মতপার্থক্য ও থাকবে।
মতপার্থক্যের জন্য মানুষ মানুষকে হত্যা করা বা জুলুম করা মানুষের মানবিক গুণ হতে পারেনা। মানুষ সৃষ্টির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সম্মানি প্রাণী । যারা অন্য সকল প্রাণীর নিয়ন্ত্রক ও পরিচালকের আসনে রয়েছে। মানুষ নিজেকে মহান বা উত্তম দাবি করেন এই যুক্তিতে যে , মানুষ হলো মানবিক ও সহনশীল আচরণকারী অতি বুদ্ধিমান যুক্তিশীল। মতপার্থক্য বা পথের পার্থক্যের কারণে মানুষের আচরণ অমানুষের মত হতে পারেনা। স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে দুনিয়াতে মত ও পথে স্বাধীনতা দিয়েছে, আর সৃষ্টি চায় সৃষ্টিকে দুনিয়াতে নিয়ন্ত্রক হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে। এটা কেমন কথা ? মতের প্রচার আপনি করতে পারেন, মানুষকে প্রেম, দয়ার আর আপনার ধর্ম মতের পথে ডাকতে পারেন, আপনার চিন্তার কথাও বলতে পারেন। কিন্তু কাউকে মানতে বা পালন করতে বাধ্য করতে পারেননা, আপনি বাধ্য করার কে?
যে আল্লাহ বাধ্য করার ক্ষমতা রাখেন, তিনিতো বললেন- আমি দুনিয়াতে কাউকে চিন্তা ও পথ গ্রহণে বাধ্য করিনা, এটা দুনিয়া আমি স্রষ্টার উদারতা আর সৃষ্টির পরীক্ষার জায়গা। মানুষ হয়ে স্রষ্টার আইন লঙ্গন করে নিজে স্রষ্টার সৃষ্টিকে হত্যা করা মহা অন্যায় ও অনিয়ম। কর্ম আর কর্মী পৃথিবীতে আপন অধিকার এমন ভাবে ভোগ করবে, যেন অন্যের অধিকারে কোন ধরনের অসুবিধা না হয়। সমস্ত পৃথিবীর মানুষ মুক্ত মনের মিছিলে স্বাধীন আর আনন্দের সাথে যুক্ত হয়ে শান্তির পথে চলতে হবে। মায়ের বুকে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়ের মত করে পৃথিবীকে শান্তি আর সুন্দর নিরাপদ শহর বানাতে হবে। প্রেম, দয়া, সহানুভূতি, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা হবে মানুষের পরম ধর্ম। মানবিকতা আর জীবে ভালোবাসা সবার আগে। অহিংসা মন্ত্রে অহংকার কে জ্বলতে দিতে হবে। মানুষের মিছিলে শ্লোগান হবে- "মুক্তচিন্তায় শান্তির পথ"। এখানে শান্তির জীবন প্রতিষ্ঠা করা সকল ধর্মের বা সকল মত পথের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। এখানে সকল মানুষ রক্ত মাংসে গড়া আল্লাহর সৃষ্টি। সকল সৃষ্টির বেচে থাকা আর জীবনকে ভোগ করার অধিকার রয়েছে।
মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস-অর্থনীতি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Thursday, February 14, 2019
ইসলামের মানবতা ও মুক্তচিন্তায় শান্তিরপথ
যখন প্রথম বাংলা ব্যাকরণ শিখা শুরু করলাম স্যার বললেন, মানুষ জন্ম বা সৃষ্টির পর থেকে ভাষা এসেছে। ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম, আর ভাষাকে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম হলো বর্ণমালার লিখিত রুপ। ভাষার হাজার বছর পরে বর্ণমালা এবং তারও হাজার হাজার বছর পর ভাষাবিদেরা ভাষারীতি বা নীতিমালা প্রণয়ন করেন, যেটাকে আমরা ব্যাকরণ বলি। সুতারাং ভাষার জন্য বা ভাষার সহায়ক হলো ব্যাকরণ, ব্যাকরণের জন্য বা সহায়ক ভাষা নয়। বর্তমানে ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাকরণকে এমন বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে যে, ব্যাকরণ না জানলে ভাষা শিখা যায়না।
এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। তবে হা, ভাষা লিখিত রুপ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাকরণ কিছুটা সহায়ক হিসেবে কাজ করে বলতে পারেন। আমরা আমাদের শিশু সন্তানদের ভাষার লিখিত রুপ শিখানো ক্ষেত্রে কি প্রথমে ব্যাকরণ শিখাই ? উত্তর না। আবার প্রবাসীরা যখন আরব বা ইউরোপে ভাষা শিখে তখন কি ব্যাকরণ শিখে ? উত্তর না।
তাহলে আমরা বলতে পারি, ভাষার রুপগত আকারকে সুন্দর করার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ সহযোগী ভুমিকা পালন করে মাত্র। পৃথিবীতে এমন শতশত ভাষা আছে, যেটা ব্যাকরণ তো অনেক দূর, রুপগত আকার বা বর্ণমালা ও নেই। তাহলে আমরা বলতে পারি ভাষার প্রকাশ হলো মৌলিক ও প্রধান বিষয়। আর ব্যাকরণ হলো সহায়ক বিষয় মাত্র। অথচ মানুষ আসলটাকে বাদ দিয়ে নকলটা নিয়ে টানাটানি ও পারাপারি করে মহাব্যস্থ।
আজকের পৃথিবীতে প্রায় সাতশত কোটির একটু বেশি মানুষ বসবাস করে। যার অর্ধেরও বেশি নারী আর বাকিটা পুরুষ। এই পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির করে পাঠানোর আগে জ্বীন জাতিকে পাঠিয়েছেন। মানুষ পৃথিবীতে আসার আগেও এখানে জ্বীনেরা ছিল। পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া সব কিছুই মানুষের কল্যাণে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবী কে আল্লাহ মানুষের বসবাসের জন্য এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। কোন বিশেষ শ্রেনী বা গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় বা আল্লায় বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী এমন কারো জন্য সৃষ্টি করেননি। কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষের কল্যাণের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ইসলাম হলো আল্লাহর মনোনীত ধর্ম মত বা পথ। ইসলাম ধর্মমত বা পথকে আল্লাহ মানব জাতির জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন। তবে মানুষকে দুনিয়াতে মত বা পথ গ্রহণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন - আমি আল্লাহ যদি চাইতাম, সকল মানুষকে মুসলিম ও ইসলামকে দুনিয়াতে স্থায়ীভাবে কায়েম করতে পারতাম। এটা আমি করিনি কারণ আমি দেখতে চাই, তোমাদের মাঝে কারা আমাকে বিশ্বাস করে ও আমার দেওয়া বিধান মেনে চলে। তাহলে আমরা বলতে পারি, পৃথিবীর মৌলিক উপাদান হলো মানুষ, সকল মানুষ, এখানে কোন শ্রেনী বা বিশেষ গোষ্ঠির জন্য আল্লাহ পৃথিবী বা অন্য সব কিছু সৃষ্টি বা ইসলাম কে মনোনীত করেননি। মানুষ হলো মৌলিক উপাদান, আর অন্য সব প্রাণী বা জীবজন্তু বা ধর্ম মত বা পথ বা ইসলাম বা সব সৃষ্টি করেছে শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণে বা প্রয়োজনে। অথচ আজ মানুষকে গৌণ বিষয় আর ধর্মমত বা পথকে মৌলিক বিষয় বানিয়ে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। যে মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ পৃথিবীকে সৃষ্টি করলো, ইসলাম ধর্মকে পাঠিয়েছে, এই মানুষ আজ ধর্মের নামে, পৃথিবী শাসনের নামে, পৃথিবীর ক্ষমতার জন্য, আরেক মানুষকে হত্যা করছে, মানুষ মানুষের উপর জুলুম করছে, নির্যাতন করছে, নিজ ধর্মমত অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি সকল জাহানের একমাত্র মালিক ও সৃষ্টিকারী, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠালেন এবং যিনি মানুষকে দুনিয়াতে পরীক্ষা করার জন্য স্বাধীন করে দিলেন তার সৃষ্টি মানুষকে আজ মানুষই ক্ষমতার জন্য, ধর্মের নামে, ইসলামের নামে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ধর্মমত বা পথ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটা বিশ্বাস ও স্বেচ্ছায় মানা এবং পালন করার বিষয়। দুনিয়ার জীবনে আমরা যখন স্কুল বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিই, তখন কি আমরা একজন আরেকজনকে লিখে দিই, বা আমরা কি অন্য কেমন পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা নিয়ে ভাবি ? নাকি নিজের পরীক্ষা নিয়ে ভাবি?
অবশ্যই নিজে পরীক্ষা দেই এবং নিজেকে নিয়ে ভাবি। কারণ আমার কর্মফল আমাকে ভোগ করতে হবে। প্রশ্ন নিদিষ্ট আর উত্তর লেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর ফলাফলে প্রশ্নের উত্তর অনুযায়ী পরীক্ষার পর ঘোষণা করা হবে।
দুনিয়াটা মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, এখানে প্রত্যেক মানুষ পরীক্ষার্থী আর আল্লাহ সবাইকে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা মানুষ হয়ে কাউকে বাধ্য করতে পারিনা। তবে মানুষের কল্যাণময়ী হয়ে সঠিক পথে ডাকতে পারি। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা আল্লাহ কোন নবী বা রাসূলকে ও দেননি। পৃথিবী হলো পরীক্ষার হল, এখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং সময়ও সবার জন্য নিদিষ্ট। এখানে মানুষের নতুন নতুন ভাবনা আছে, চিন্তা আছে, মত বা পথ প্রকাশের ভিন্নতা থাকতে পারে। সবাই পাশ করবেনা, আবার সবাই ফেলও করবেনা এবং সমান নাম্বারও পাবেনা। এখানের পরিবেশে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপার্থক্য মানুষের জন্মগত, আইনগত এবং মুক্তচিন্তা আর স্বাধীন মানসিকতার উর্বর ফসল। যারা মনে করে পৃথিবীর সকল মানুষ একই চিন্তা আর বিশ্বাসের আলোকে চলবে বা পরিচালিত হবে, তাদের চিন্তার গোড়াতে গলদ আছে বলে আমি মনে করি। যারা স্রষ্টাতে বিশ্বাস করে বা ইসলাম ধর্মের অনুসারী, তারা এমনটা কোন ভাবেই বিশ্বাস করার কারন থাকতে পারেনা। আল্লাহ দুনিয়াতে মানুষকে চিন্তা, বিশ্বাস আর মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের জীবন নিজের মত করে পরিচালিত করারও স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে সবাইকে ইসলামের অনুসারী এবং পৃথিবীতে ইসলামকে একমাত্র পথ ও মত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা করেননি, তিনি দুনিয়াতে মানুষকে মত ও পথ গ্রহণে স্বাধীনতা দিয়েছে। কাউকে জোর করে বা বাধ্য করে মতামত বা পথ চাপিয়ে দেননি। ধর্ম বা বিশ্বাস মানুষ পৃথিবীতে আসার আগেও ছিল, এখনও আছে। পৃথিবী পূর্ণ আয়ুতে থাকবে। যতদিন থাকবে, ততদিন মতপার্থক্য ও থাকবে।
মতপার্থক্যের জন্য মানুষ মানুষকে হত্যা করা বা জুলুম করা মানুষের মানবিক গুণ হতে পারেনা। মানুষ সৃষ্টির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সম্মানি প্রাণী । যারা অন্য সকল প্রাণীর নিয়ন্ত্রক ও পরিচালকের আসনে রয়েছে। মানুষ নিজেকে মহান বা উত্তম দাবি করেন এই যুক্তিতে যে , মানুষ হলো মানবিক ও সহনশীল আচরণকারী অতি বুদ্ধিমান যুক্তিশীল। মতপার্থক্য বা পথের পার্থক্যের কারণে মানুষের আচরণ অমানুষের মত হতে পারেনা। স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে দুনিয়াতে মত ও পথে স্বাধীনতা দিয়েছে, আর সৃষ্টি চায় সৃষ্টিকে দুনিয়াতে নিয়ন্ত্রক হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে। এটা কেমন কথা ? মতের প্রচার আপনি করতে পারেন, মানুষকে প্রেম, দয়ার আর আপনার ধর্ম মতের পথে ডাকতে পারেন, আপনার চিন্তার কথাও বলতে পারেন। কিন্তু কাউকে মানতে বা পালন করতে বাধ্য করতে পারেননা, আপনি বাধ্য করার কে?
যে আল্লাহ বাধ্য করার ক্ষমতা রাখেন, তিনিতো বললেন- আমি দুনিয়াতে কাউকে চিন্তা ও পথ গ্রহণে বাধ্য করিনা, এটা দুনিয়া আমি স্রষ্টার উদারতা আর সৃষ্টির পরীক্ষার জায়গা। মানুষ হয়ে স্রষ্টার আইন লঙ্গন করে নিজে স্রষ্টার সৃষ্টিকে হত্যা করা মহা অন্যায় ও অনিয়ম। কর্ম আর কর্মী পৃথিবীতে আপন অধিকার এমন ভাবে ভোগ করবে, যেন অন্যের অধিকারে কোন ধরনের অসুবিধা না হয়। সমস্ত পৃথিবীর মানুষ মুক্ত মনের মিছিলে স্বাধীন আর আনন্দের সাথে যুক্ত হয়ে শান্তির পথে চলতে হবে। মায়ের বুকে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়ের মত করে পৃথিবীকে শান্তি আর সুন্দর নিরাপদ শহর বানাতে হবে। প্রেম, দয়া, সহানুভূতি, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা হবে মানুষের পরম ধর্ম। মানবিকতা আর জীবে ভালোবাসা সবার আগে। অহিংসা মন্ত্রে অহংকার কে জ্বলতে দিতে হবে। মানুষের মিছিলে শ্লোগান হবে- "মুক্তচিন্তায় শান্তির পথ"। এখানে শান্তির জীবন প্রতিষ্ঠা করা সকল ধর্মের বা সকল মত পথের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। এখানে সকল মানুষ রক্ত মাংসে গড়া আল্লাহর সৃষ্টি। সকল সৃষ্টির বেচে থাকা আর জীবনকে ভোগ করার অধিকার রয়েছে।
লেখকঃ
মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস-অর্থনীতি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Monday, January 7, 2019
আমার স্বপ্ন আমার দেশঃ মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া
আমার স্বপ্ন আমার দেশঃ(মুহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া)
"দুর্নীতি দুঃশাসন করবো শেষ
গড়বো নিরাপদ বাংলাদেশ"
রাজনীতি কি?
রাজনীতি হলো নদীর মত চলমান ও বহমান, যার ভাঙ্গা-গড়া আর উত্থান-পতনের মাঝে সমাজবিপ্লবীদের সৃষ্টি হয়। যার শেষ হয় বিশাল সমুদ্রের মোহনায় মিলনের মাধ্যমে। এখানে হিংসা, হিংস্রতা বা নিচু মানসিক লোকদের কোন স্থান নেই। সত্য, সম্মান এবং শ্রদ্ধাবোধ কাউকে ছোট করেনা, জগতে অশ্রদ্ধা করে কেউ কোনদিন বড় হতে পারেনি, আবার শ্রদ্ধা করলে কেউ ছোট হয়ে যায়না। রাজনীতির মূলমন্ত্র হলো- প্রেম, ভালোবাসা আর মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্ব জগতের সেবা করা-
চেতনায় ৭১ বুকে ধারন করে সম্পূর্ণ দুর্নীতি, দারিদ্র ও বেকারত্ব মুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে, এদেশকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শোষণহীন, ন্যায় ও সাম্যের সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে- ১৫ বছরের মাস্টার পরিকল্পনা (মেগা পরিকল্পনা) হাতে নিয়ে ৭১-দফা-
১। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
২। অদক্ষ নাগরিকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে সকল কর্মক্ষম নাগরিকদের দেশে বা বিদেশে কাজের ব্যবস্থা করা হবে এবং দক্ষ বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।
৩। এইচ এস সি পর্যন্ত একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে - আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা,ব্যবসা শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হবে।
৪।রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা বা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবেনা।
৫। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে খাদ্য উৎপাদ বৃদ্ধি করা হবে ও নাগরিকদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হবে এবং খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ গঠনের লক্ষ্যে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
৬। নাগরিকদের মৌলিক চিকিৎসার অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরোদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭। রাষ্ট্রীয় খরচে কোন নাগরিকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হবেনা বা চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবেনা।
৮। ভূমিহীন ও স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য সুদবিহীন ঋণের মাধ্যমে গৃহঋণ প্রকল্প চালু করা হবে।
৯। মাদক মুক্তি দেশ গঠনের লক্ষ্যে, মাদক দ্রব্যের ব্যবহার আমদানি-রপ্তানি ও উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে (তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডাক্তারের অনুমতিতে ব্যবহার করা যাবে) এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের চাকুরী প্রদান করা হবেনা।
১০। সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের সময় এবং চাকুরীজীবনে ৫ বছর পরপর ড্রাগ টেস্ট দিতে হবে।
১১। সামরিক ব্যয় কমানো লক্ষ্যে এবং প্রতিটি নাগরিককে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ সবল করে গড়ে তোলার জন্য (৩ মাসের) সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
১২। বাল্য বিয়ে বন্ধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রচারণা বৃদ্ধি এবং যৌতুক বিহীন বিয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সুদ মুক্ত মেয়াদী ঋণ দেওয়া হবে।
১৩। শিক্ষিত বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সল্প সুদে ৫ লক্ষ টাকা কৃষি বা ক্ষুদ্র শিল্প ঋণ দেওয়া হবে।
১৪। জন্মের কালিন সময় মা ও তার পরিবারের সচেতনতা মুলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রথম সন্তান জন্মের সকল ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।
১৫। সকল নাগরিকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং মতা প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ধর্মহীনদের ক্ষেত্রেও সমান অধিকার থাকবে।
১৬। সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করা হবে এবং রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার বজায় থাকবে।
১৭। দেশের সকল নাগরিক বা দল বা সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় দিবস গুলো মর্যাদার সাথে পালন করতে হবে এবং জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের সম্মান জানাতে হবে।
১৮। উম্মুক্ত সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে।
১৯। রাত ১১টার পর দেশের জাতীয় অনুষ্ঠান ছাড়া শব্দ দোষণ করে কোন ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবেনা।
২০। রাষ্ট্রের কাছে নারী বা পুরুষ বা তৃতীয় লিংগের সবাই নাগরিক এবং বাংলাদেশি বলেই পরিচিত হবে।
২১। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী বা শারীরিক অক্ষম বিশেষ শ্রেনীর জন্য রাষ্ট্র প্রয়োজনে বিশেষ সুবিধা দিবে।
২২। সন্তান বা সম্পদহীন বয়স্ক নাগরিকদের (আদালতের রায়ে শাস্তি প্রাপ্তরা ছাড়া) বিশেষ ভাতা ও চিকিৎসা ব্যয় সরকারী ভাবে বহন করা হবে।
২৩। কর্মক্ষম প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষার জন্য সরকারি ভাবে (মাসিক একশত টাকা হারে) ৫ লক্ষ টাকার জীবন বীমা চালু করা হবে।
২৪। আয়ক্ষম প্রতিটি নাগরিককে আয়করের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং বিশেষ কর কার্ড দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।
২৫। প্রতিটি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং জেলা ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষার জন্য মেধা ও গরীব ছাত্রদের জন্য উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি চালু করা হবে।
২৬। রাষ্ট্রের অধিনে পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ সরকারী করা হবে এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ২০ ভাগ গরীব ছাত্রদের বিনা বেতনে অধ্যায়ন ও ২০ ভাগ সিট গ্রামের ছাত্রদের জন্য থাকতে হবে।
২৭। মুক্তিযোদ্ধা, যোদ্ধাহত ও বীরাঙ্গনা মায়েদের জন্য সরকারি যানবাহন ও চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণ ফ্রী থাকবে এবং বেসরকারি যানবাহন ও চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেক বা হাপ করা হবে।
২৮। পররাষ্ট্র নীতি হবে সকল দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুর সাথে বন্ধুর বিরোধ হলে আপোষ করা বা নিরপেক্ষ থাকা।
২৯। আইন, বিচার, শাসন ও নির্বাচন কমিশন কে শতভাগ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়া হবে। এবং রাষ্ট্র কোন ধরনের বিশেষ সুবিধা নিবেনা।
৩০। ১৫ বছরের পরিকল্পনায় শতভাগ স্বাক্ষরতার হার অর্জন করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে এবং এদেশকে শিক্ষাবান্ধব দেশ হিসেবে গড়েতোলা হবে।
৩১। দলীয় বা রাষ্ট্রীয় পদে একজন নাগরিক তিনবারের অধিক থাকতে বা নির্বাচন করতে পারবেনা।
৩২। সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে, চাকুরী প্রার্থী থেকে আবেদনের সাথে কোন ধরনের অর্থ গ্রহণ করা যাবেনা এবং সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে একবারের অধিক কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করা যাবেনা
৩৩। সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়স সকল নাগরিকের জন্য ৪০ বছর করা হবে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪২ বছর করা হবে।
৩৪। বিশেষ শ্রেনীর নাগরিক ছাড়া, সরকারি ও বেসরকারি সকল নিয়োগ সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে হবে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে নারী ও পুরুষের কোটা থাকবে।
৩৫। সামরিক বাহিনীকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে এবং নারীদের অংশ গ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।
৩৬। দেশ রক্ষার প্রয়োজনে বিশেষ প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা হবে এবং সমসাময়িক আধুনিক বা অত্যাধুনিক অস্ত্রবল ও জনবল তৈরি করা হবে।
৩৭। সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবছর সম্পদের হিসাব নিজ বিভাগে জমা দিতে হবে। সম্পদের হিসেবে অতিরিক্ত ব্যবধান হলে দুর্নীতি কমিশনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
৩৮। সরকারি চাকুরী শেষ হওয়ার ৫ বছর ব্যবধানের আগে কোন ধরনের নির্বাচন করতে পারবেনা এবং ২ বছর ব্যবধানের আগে রাষ্ট্রের অন্য কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেনা।
৩৯।রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ স্পীকার, প্রধান বিচারপতি ও প্রধান বিরোধীদলের নেতা ছাড়া অন্য কাউকে পুলিশ প্রটোকল দেওয়া হবেনা, তবে বিশেষ প্রয়োজনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিতে পারবেন।
৪০। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য ৫ বছর মেয়াদের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ট্রাফিক গার্ড বাহিনী নামে একটি আলাদা বাহিনী গঠন ও এই বাহিনীর জন্য আলাদা মন্ত্রনালয় করা হবে।
৪১। নিয়োগ বিভাগ বা কর্ম বিভাগ নামে আলাদা একটি বিভাগ থাকবে, যে বিভাগের মাধ্যমে সরকারি সকল নিয়োগদান হবে ও বেসরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন দিবে।
৪২। উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার জন্য সাবেক বৃহত্তম ১৭ জেলাকে আলাদা প্রাদেশিক মর্যাদা দিয়ে পর্যায়ক্রমে শাসন ব্যবস্থা চালু করা হবে । যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা ও সংসদ ব্যবস্থা থাকবে।
৪৩। দেশের প্রয়োজনে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা হবে তবে রপ্তানি করা হবেনা।
৪৪। ধর্মীয় অনুষ্ঠার যার যার জাতীয় ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠান সবার এই স্লোগানে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক শক্তি মুক্ত সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বন্ধনের মিলন গঠানো হবে।
৪৫। অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য আমদানিতে শুল্কহার কমানো হবে এবং উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া হবে।
৪৬। কৃষি প্রযুক্তির মালামাল উৎপাদনের উপাদানের উপর আমদানি শুল্কমুক্ত আরো কমানো হবে।
৪৭। শব্দ, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ বিরোধী কার্যকর আইন প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রত্যেক জেলায় শহরের বাহিরে আলাদা শিল্প নগরী স্থাপন করা হবে।
৪৮। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি মিডিয়া বন্ধ করে দেশের মিডিয়ার প্রচার ও প্রসার করা হবে এবং প্রতিটি চ্যানেলকে একটি নিদিষ্ট বিষয় বিশেষ মাধ্যম হিসেবে প্রচারের অনুমতি প্রদান করা হবে।
৪৯। ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখা হবে এবং খেলোয়ারদের জন্য কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হবে।
৫০। প্রবাসীদের আয় ও বিনিয়োগের উপর করের হার কমানো হবে বা প্রয়োজনে তোলে নেওয়া হবে এবং
প্রবাসী ও তার পরিবার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ আইন করা হবে।
৫১। প্রবাসী নাগরিক সুরক্ষা আইন করে বিদেশে বাংলাদেশী প্রবাসী নাগরিকদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে এবং প্রবাসীদের স্ত্রী ও সন্তানকে দেশে বিশেষ আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
৫২। লেবার ভিসায় শ্রমিক বিদেশ যাওয়ার জন্য বিনা সুদে মেয়াদী ঋণ দেওয়া হবে। এবং মেয়াদের মধ্যে বিদেশে শ্রমিকের মৃত্যু হলে ঋণ মকুফ করা হবে এবং লাশ দেশে আনার বিমান খরচ সরকার বহন করবে।
৫৩। প্রতিটি জেলা রেলপথ এর আওতাধীন ও প্রতিটি বিভাগে বা প্রদেশে বিমান বন্দর নির্মাণ করা হবে।
৫৪। শতভাগ বিদুৎতায়ন ও লাইন গুলোকে ভূগর্ভে নিয়ে দুর্ঘটনারোধ করে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।
৫৫। তামাক পণ্য উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হবে এবং মাদক ও তামাক বিরোধী প্রচার বাড়ানো হবে। মেগা পরিকল্পনায় তামাক ও মাদক মুক্ত দেশ গড়া হবে।
৫৬। পারমাণবিক শক্তিকে মানবতার কল্যাণের জন্য ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে এবং বিদুৎ শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে, দেশের জনগন প্রয়োজন মনে করলে, দেশ রক্ষায় পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করা হবে।
৫৭। প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সাথে অধিক সুসম্পর্ক স্থাপন করা হবে, আমদানি ও রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা হবে এবং বিদেশি মুদ্রা ও সোনার রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হবে।
৫৮। সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সীমান্তে হত্যা ও চোরাচালান বন্ধ এবং বিজিবিকে অধিক শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করা হবে।
৫৯। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চতুর্মুখী ভাবে আধুনিকায়ন করা হবে এবং চক্রাকার সড়ক ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। দেশে গাড়ি উৎপাদন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হবে।
৬০। দল যার যার, দেশ, মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সবার, এই মন্ত্রে জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।
৬১। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ করা হবে।
৬২। চোরাচালান, মাদকপাচার, নারী ও শিশু পাচার এবং অর্থ পাচার বন্ধ করা হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
৬৩। উন্নয়ন বন্টনের ক্ষেত্রে ইনসাফ ও সমতার সমন্বয় করা হবে এবং আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
৬৪। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি হবে পুজিবাদ, সমাজতত্ত্ব ও ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার কল্যাণময় কাঠামোর সমন্বিত সংযোজনের এমন একটি রুপ, যেখানে ইনসাপ ও সাম্যের সাথে মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই অর্থ ব্যবস্থার নাম হলো- "মিক্স আইডিয়াল ইকোনোমি"
৬৫। বিনোদনের জন্য প্রতিটি জেলায় আধুনিক পার্ক ও চিড়াখানা গড়ে তোলা হবে।
৬৬। ঔষধ শিল্পে মান নিশ্চিত করা হবে এবং প্রধান রপ্তানিকৃত শিল্পে পরিণত করা হবে।
৬৭। পোষাক শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করা হবে।
৬৮। শ্রমিকদের কর্মবীমা ও চিকিৎসা বীমা চালু করা হবে এবং শ্রমিক নিরাপত্তা আইন করা হবে।
৬৯। (নারী-পুরুষ) ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য সমন্বয় করা হবে এবং নারী নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে আইন বাস্তবায়ন করা হবে এবং পুরুষ নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়ন করা হবে।
৭০। সংবিধান পরিপন্থী সকল রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
৭১। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও কল্যাণের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও আনন্দময় জীবনের জন্য নিরাপদ দেশ গঠন এবং বর্তমান আধুনিক বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে সর্বাধুনিক কল্যাণকর ও সুন্দর দেশে হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য-
লেখকঃ
মুহাঃ মহসীন ভূঁইয়া
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস (অর্থনীতি)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।





